বিজ্ঞাপন

header ads

আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল : কাদের

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বব্যাপি মহামারি আকারে চড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের তালিকায় এখন বাংলাদেশ। সোমবার পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত ও তিনজের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একথা জানিয়েছেন। সোমবার সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশের জনগণের মধ্যে করোনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। সঠিক তথ্য দিয়ে আতঙ্ক দূর করতে হবে। জনসমাগম হতে পারে এমন কর্মসূচী পরিহার করতে হবে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও শহর পর্যায়ে প্রবাসীদের খুঁজে বের করতে হবে।


ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেবেন। সরকারিভাবে সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সব প্রোগ্রাম বাতিলের নির্দেশ দিচ্ছি। জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে কাদের বলেন, জনপ্রতিনিধিরা করোনা ভাইরাসের বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করুন। কারও মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোনও প্রকার খাদ্য সংকট নেই। অহেতুক মজুত করলে মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনার প্রকোপ কমাতে প্রয়োজন হলে বাস চলাচল বন্ধ করা হবে। বাস্তবতাকে অস্বীকার বা এড়িয়ে কিছু করা হবে না। যখন যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার প্রস্তুত আছে। এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলায় কোনও ধরনের সরঞ্জাম নেই এটা বলা যাবে না, তবে ঘাটতি আছে। সংগ্রহ করার জন্য উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, করোনার প্রকোপ কমাতে প্রয়োজন হলে বাস চলাচল বন্ধ করা হবে। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ি বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে বিআরটিসির ৩৪টি বাস ও তিনটি ট্রাক নিযুক্ত করার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এছাড়া দুটি বাস জরুরী সেবায় বিমানবন্দরে স্টেনবাই রাখা হয়েছে। বিআরটিসির সকল বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সকল গাড়ি চালক, সহকারীকে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়ার কথা জানিয়ে কাদের বলেন, ট্রিপের শুরু ও শেষে বাধ্যতামূলকভাবে গাড়ি জীবানুমুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী সেবা পরিচালনায়র জন্য পরিবহন মালি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোতে নির্দেশ দেয়ার কথাও জানান সড়ক মন্ত্রী। অনেকে বলছে, তিনমাস সময় পেলেও ব্যবস্থা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করেনি এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, তথ্য গোপন করে তো আমি যুদ্ধে জেতার আগেই হেরে যাচ্ছি, তথ্য কেন গোপন করবো? সরকারের কিছু কৌশলগত বিষয় আছে। কৌশলগত বিষয়টা চায়নাকেও অবলম্বন করতে হয়েছে। কাজেই এসব কিছু কিছু আছে সেগুলো প্রয়োজনে বলা যায় না। সরকারের একমাত্র মনোযোগ অভিন্ন শত্রু করোনা এবং সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই যুদ্ধে সামিল হতে গোটা জাতিকে আহ্বান জানাই। আমি একটা কথা বলছি- যখন যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন সেই ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে শেখ হাসিনা সরকার প্রস্তুত আছে।
যেখানে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জমাদি-পিপিই নেই, সেখানে সরকারের প্রতি আস্থা কীভাবে রাখবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সেতুমন্ত্রী বলেন, নেই এ কথাটা ঠিক নয়। কিছু ঘাটতি আছে। এটা সংগ্রহ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সব কিছুর জন্য সরকারের প্রস্তুতি আছে। ডাক্তারদেরও প্রস্তুতি নেয়া আছে। করোনা যুদ্ধে মোকাবেলায় তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড়ে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশে যা নেই তা বিদেশ থেকে আনার চেষ্টা চলছে। এই যুদ্ধের মুখোমুখি কিংবা এ যুদ্ধ মোকাবেলার প্রস্তুতি কারোই ছিল না, পৃথিবীর কোন দেশরই ছিল না, আমাদেরও ছিল না। আমরা এখনো আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও এখানে সৃষ্টি হয়নি। অহেতুক আতঙ্কিত হবে এমন অপপ্রচার থেকে, গুজব সৃষ্টি থেকে বিশেষ করে ফেসবুকে অপপ্রচার চলছে এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। আক্রান্তদের সবাই পরীক্ষা করতে পারছে না- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কাদের বলেন, এখানে প্রাথমিকভাবে কিছু দুর্বলতা ছিল সেগুলো কাটিয়ে উঠার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে এবং টেস্টের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য সরকার জোরদার প্রস্তুতি শরু করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের যারা বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন তারা যেন সত্যটা স্বীকার করেন। এটা করলে আমরা ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করবো। চীনের অভিজ্ঞতা দেখার পরও কেন লকডাউন করা হল না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উম্মুক্ত করে রাখা হয়নি। যেখানে প্রয়োজন হচ্ছে সেখানে লকডাউন করা হচ্ছে। ছোট ছোট এলাকা লক ডাউন করা হচ্ছে একসাথে লকডাউনের পরিকল্পনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব কিছুই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments