আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা যে মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায় তার প্রমাণ আমি নিজেই। এটা অনেক সহজ একটা কথা। কিন্তু মানুষ সেই সময় পর্যন্ত বিশ্বাস করে না যতক্ষণ না সে নিজে প্রমাণ পায়। মানুষের জীবনে যদি শুধু সুখ থাকত তবে মানুষ অনেক কিছুই অনুধাবন করতে পারত না।
আমার জীবনের কথা যদি বলি, আমি সেই ছোটবেলা থেকেই কষ্ট দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। কষ্ট ছিল আমাদের পরিবারের নিত্যদিনের সাথী। পর্যাপ্ত খাবারের অভাব, বিনোদনের অভাব, শিক্ষার অভাব, ভালোবাসার অভাবসহ আরও অনেক অভাবই ছিল। কিন্তু ভেঙে পড়িনি কখনো। ওই রবের উপর পূর্ণ আস্থা হয়তো ছিল।
এই কথাগুলো যখন লিখছি সেই সময়টাও আমার জন্য খুবই কঠিন। এখন আমার প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ। একটা স্বনামধন্য মেডিসিন কোম্পানিতে চাকরি করছি। কিন্তু তবুও প্রতিনিয়ত হিমশিম খাই। অভাব-অনটন লেগেই থাকে। আসলে এই মেডিসিন কোম্পানির চাকরিগুলো কেমন তা যারা করে তারাই জানে।
তবে আমি সুস্থ আছি এবং সর্বাবস্থায় বলি আলহামদুলিল্লাহ। কারণ, দুনিয়াটা হচ্ছে মানুষের জন্য পরীক্ষার হল। এখানে যে যেমন পরীক্ষা দেবে সে তেমন ফল পাবে পরকালে। আমার এত এত টাকার অভাব—এই মনে হয় আর পারব না, সব শেষ। পরক্ষণে আল্লাহ কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেন। আল্লাহ তায়ালার সেই রহমতের কারণে আজও আমি বেঁচে আছি।
আমার বয়স এখন ৩০ বছর। কিছুদিন পরেই ৩১-এ পা দেব। এই বয়সেই যত ঝামেলা জীবনে সামলে নিয়েছি, মহান আল্লাহ আমার উপর রহমত না করলে আমি কবেই হয়তো আত্মহত্যা করতাম। পারতাম না এত ঝামেলা সহ্য করতে। কিন্তু তবুও আল্লাহর ইবাদত করতে আমরা আলসেমি করি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো পড়ি না। আরও কত কত অপরাধ করি যার হিসাব নেই।
তবে কোনো মানুষ যদি আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও ঈমান এনে জীবন পরিচালনা করে, সেই মানুষ কখনো হেরে যাবে না। যদি কখনো হেরে যায় তবে বুঝতে হবে আল্লাহ তায়ালা হয়তো ওই ব্যক্তিকে পরীক্ষা নিচ্ছেন। মানুষের জীবনে যাই ঘটুক না কেন, সেটা হয়তো তার জন্য শাস্তি অথবা পরীক্ষা আল্লাহর পক্ষ হতে। এই কথায় আমাদের সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে।
আপডেট হবে…


