এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, মজুত আছে প্রায় ২ লাখ টন

এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, মজুত আছে প্রায় ২ লাখ টন

সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হলো:

এপ্রিলে তেলের দাম অপরিবর্তিত, মজুত আছে পর্যাপ্ত

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের জন্য সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ লাখ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত।

নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা

‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে পূর্বের দামই বহাল থাকছে। ১লা এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া মূল্যগুলো হলো:

  • ডিজেল: ১০০ টাকা (প্রতি লিটার)

  • অকটেন: ১২০ টাকা (প্রতি লিটার)

  • পেট্রোল: ১১৬ টাকা (প্রতি লিটার)

  • কেরোসিন: ১১২ টাকা (প্রতি লিটার)

জ্বালানি মজুতের বর্তমান চিত্র

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট জ্বালানি তেলের মজুত ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

জ্বালানির ধরনমজুতের পরিমাণ (টন)
ডিজেল১,২৮,৯৩৯
জেট ফুয়েল৪৪,৬০৯
পেট্রোল১১,৪৩১
অকটেন৭,৯৪০

তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নিয়মিত কার্গো খালাসের মাধ্যমে এই মজুত পর্যায়ক্রমে হালনাগাদ হচ্ছে, তাই সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

পাচার রোধ ও তদারকি ব্যবস্থা

জ্বালানি তেল পাচার রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত মার্চ মাসে পরিচালিত ৩,৫৫৯টি অভিযানে ১২৪৪টি মামলা এবং ৮৪ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ লিটার অবৈধভাবে মজুতকৃত তেল উদ্ধার করা হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়াতে নতুন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

পাম্প মালিকদের বিশেষ দাবি

এদিকে পেট্রোল পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যান্ড ওনার্স এসোসিয়েশন ৮ দফা দাবি পেশ করেছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • পাম্পের সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা।

  • পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  • ডিপো থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মতে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিকল্প উৎস থেকে তেল কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সাম্প্রতিক আপডেট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top