বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পোশাকে আসছে নতুন পরিবর্তন। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো ডিজাইন নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশের ওপরের অংশের পোশাক আগের মতোই থাকবে, কেবল প্যান্টের রং পরিবর্তন করে খাকি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব আবেদন ও দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে যে পোশাক প্রচলিত রয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বয়ং পুলিশ সদস্যরাও সন্তুষ্ট নন। পোশাকটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হলে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রো এলাকা এবং সারা দেশের জন্য ওপরের অংশে আগের যে পোশাক ছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে। নতুনত্ব শুধু প্যান্ট বা পায়জামায়— সেটি এখন থেকে খাকি রঙের হবে। বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি পোশাক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন পোশাক পরিধান শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ কাপড় উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণের বিষয় জড়িত। এটি এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল।
১৬ ডিআইজির বাধ্যতামূলক অবসর: রুটিন প্রশাসনিক কাজ
সম্প্রতি পুলিশের ১৬ জন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলকে (ডিআইজি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা— এসব মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এগুলো প্রতিদিনই হয়, এতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
যাঁদের সরানো হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বা প্রমাণ আছে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এগুলো মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কারও প্রতি যেন অন্যায় না হয়, সেদিকে বিশেষ মনোযোগ রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সরকারের কঠোর অবস্থান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার দৃঢ় ও আইনসম্মত পথে এগিয়ে চলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক পরিস্থিতি থেকে বিভিন্ন সংস্থাকে পুনর্গঠিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হলেও সরকার সঠিক পথেই আগাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জামিন আদালতের আইনি বিষয়, তবে চিহ্নিত অপরাধীরা যেন সমাজে পুনরায় অশান্তি ছড়াতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সজাগ দৃষ্টি রাখছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন— হত্যাসহ যেকোনো অপরাধে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ১লা মে থেকে সারা দেশে মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা একযোগে এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
তিনি জানান, মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে ধরাই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনায় নতুন কর্মপরিকল্পনা
গতকাল সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) বিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মন্ত্রী জানান, উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ রোহিঙ্গার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, মাদক চোরাচালান বন্ধ করা এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। জয়েন্ট ফোর্সের নেতৃত্ব কাঠামো ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়েও সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
সংসদ অধিবেশন: ১৭ বছর পর প্রাণবন্ত সংসদের দেখা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও কার্যকর অধিবেশন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে একটি প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক হয়েছে এবং রেকর্ড সংখ্যক আইন প্রণয়ন হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
আরও পড়ুন: ভারতে চলন্ত ট্রেনে নির্যাতনের পর ইমামকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা — উত্তরপ্রদেশে চাঞ্চল্যকর ঘটনা



