পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত ও একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে পরিকল্পিতভাবে গাড়ি থামিয়ে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় গাড়ির চালক বুদ্ধদেবও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
কখন ও কোথায় ঘটনা ঘটেছে?
বুধবার (৭ মে, ২০২৫) রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথ কাজের উদ্দেশ্যে মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দোহাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ি থামিয়ে দেয়। এরপর গাড়ির কাচ ভেদ করে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় চন্দ্রনাথকে।
গুলি তাঁর মাথায় ও পেটে আঘাত করে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ এবং পরে তিনি মারা যান। গাড়ির কাচে তিনটি বুলেটের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে হামলাটি পরিকল্পিত এবং নিখুঁতভাবে পরিচালিত।
কে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ?
চন্দ্রনাথ রথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও তিনি কর্মসূত্রে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় বসবাস করতেন। শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন এক অপরিহার্য ব্যক্তিত্ব। সভামঞ্চের তদারকি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, গণমাধ্যম ও দলীয় যোগাযোগ রক্ষা — সবকিছুতেই শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী হিসেবে নিরলস পরিশ্রম করে যেতেন তিনি।
সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনেও শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারণাসহ যাবতীয় ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজ দক্ষতার সঙ্গে সামলাতেন চন্দ্রনাথ। বিজেপির ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভবানীপুর আসনে শুভেন্দুর হয়ে কাজ করা নির্বাচনী ‘টিম’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন চন্দ্রনাথ। আহত গাড়িচালক বুদ্ধদেবও সেই একই টিমের সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
হামলাকারীদের পরিচয় এখনও অজানা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা মাথায় হেলমেট পরা ছিলেন এবং তাঁদের মোটরসাইকেলে কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা গাড়ির ছবি ও প্রাথমিক তদন্তে হামলাটি পরিকল্পিত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে হামলাকারীরা কারা এবং তাদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
আহত গাড়িচালককে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
বিজেপির বিজয়ের পরেই হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিশাল নির্বাচনী বিজয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিজেপির একাধিক নেতা ও সদ্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্রুত উপস্থিত হন। শুভেন্দু অধিকারী নিজেও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পথে ছিলেন বলে জানা গেছে।
এই হত্যাকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মদনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: পলাতক শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর অবশেষে গ্রেপ্তার



