দেশের আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান এবং তাঁর স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার দ্বিতীয় দফার দাম্পত্য জীবনেরও ইতি ঘটেছে। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে আবারও তাদের বিচ্ছেদ ঘটায় সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে তুমুল আলোচনার ঝড় উঠেছে। গত শনিবার, ৯ মে ২০২৬, সাবিকুন নাহার সারা নিজেই এই বিচ্ছেদের বিষয়টি সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন।
যেভাবে জানা গেল বিচ্ছেদের খবর
সাবিকুন নাহার সারা জানান, দীর্ঘমেয়াদী পারিবারিক অশান্তি এবং দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমশ গভীর হয়ে পড়ে। বহু চেষ্টা করেও সম্পর্কের ফাটল জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ মিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।
সারা জানান, দুই পরিবার মিলে নতুনভাবে সংসার সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল এবং উভয় পরিবারও বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু নানাবিধ জটিলতায় সেই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত পবিত্র রমজান মাসের চাঁদরাতে তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বিচ্ছেদ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পর্যন্ত আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।
প্রথম বিচ্ছেদ থেকে পুনর্মিলন, তারপর আবার বিচ্ছেদ
এই দম্পতির বিচ্ছেদের ইতিহাস একাধিক পর্যায়ে বিভক্ত। গত বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং মনোমালিন্যের ফলশ্রুতিতে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই বিচ্ছেদ নিয়েও সে সময় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
তবে প্রথম বিচ্ছেদের পর থেমে থাকেননি দুই পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা। উভয় পরিবারের সক্রিয় মধ্যস্থতায় এবং ঘনিষ্ঠজনদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবু ত্বহা ও সারাকে আবারও একত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্রচেষ্টা সফল হয় এবং গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিক পরিবেশে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।
নতুন আশা ও প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া সেই সংসারও কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হলো না। মাত্র চার মাসের মাথায় দ্বিতীয় দফায়ও বিচ্ছেদের মুখোমুখি হলেন এই দম্পতি। ফলে তাদের দাম্পত্য পরিণতি সম্পর্কে দেশজুড়ে নানা মহলে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কে এই আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান?
রংপুরের তরুণ এই আলেম ও ইসলামী বক্তা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পরিচিতি অর্জন করেছেন। ২০১৭ সালে অনলাইনে নিয়মিত ধর্মীয় বক্তব্য প্রদান শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
জটিল ধর্মীয় বিষয়গুলো সহজ, প্রাঞ্জল এবং প্রাসঙ্গিক ভাষায় উপস্থাপন করার কারণে তাঁর বক্তব্য দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত তরুণ — সকল শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে লক্ষ লক্ষ অনুসরণকারী রয়েছেন, যা তাঁকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী অনলাইন ইসলামী বক্তার মর্যাদা দিয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে ঝড়, পেশাদারিত্বে প্রশ্ন
একজন সার্বজনীনভাবে পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত জীবনের এই ওঠানামা স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে বিস্তর প্রশ্ন ও মন্তব্যের জন্ম দিয়েছে। তাঁর অনুরাগীরা যেমন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তেমনি সমালোচকরাও এটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।
তবে সামগ্রিকভাবে, এটি দুটি পরিবারের একটি ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর বিষয়। বিচ্ছেদ যে কোনো মানুষের জীবনেই একটি কঠিন অধ্যায় — তা তিনি সাধারণ মানুষ হোন কিংবা সমাজে পরিচিত কেউ। এই পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখাই সমীচীন।
আপাতত দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও অনুসরণকারীরা অপেক্ষায় আছেন আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান নিজে বিষয়টি নিয়ে কী বলেন — তা জানার জন্য।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা — পলাতক স্বামী ফোরকান



