সাংবাদিকদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বর্তমানে যেমন আছে, এটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আরও অন্যরকম হওয়া উচিত। কারণ, বিভিন্ন ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি তারা প্রচার করে এবং তুলে ধরে। সাংবাদিক আছেন বলেই আমরা নিয়মিত দেশের সব খবর জানতে পারি। ভালো-মন্দ সব খবর তাদের মাধ্যমেই পত্রিকায় বা টেলিভিশনে আসে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংবাদিকদের ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়া উচিত। আমি আমার মতামত তুলে ধরব। এতে কার কী মনে হলো, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীন মতামত দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের সবারই আছে।
সাংবাদিকদের প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন
মূল কথায় আসি। সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনকে জানান। দেখা যায়, প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে নিল, নয়তো নিল না। এটা একান্তই প্রশাসনের ব্যাপার। কিন্তু একটা খারাপ ঘটনা ঘটার পর যখন বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন সেই ঘটনার মোড় অন্যদিকেও নিতে পারে অথবা ওই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তারা পালানোর সুযোগ পায়।
ইদানীং বিভিন্ন সময় ফেসবুকের কল্যাণে আমরা দেখতে পাই, সাংবাদিককে মারধর করা হচ্ছে। আবার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি জায়গায় সাংবাদিককে ঢুকতে দেওয়া হয় না। খবরে আসে, সবার নজরে আসে। কিন্তু ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না।
যাই হোক, আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, পুলিশ যেমন আসামি ধরে—সাংবাদিকদের সেই রকম প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া দরকার। তাই বলে শুধু ফেসবুকে একটা পেজ খুলে যারা সাংবাদিকতা করেন, তাদের জন্য কথাটি আমি বলছি না। আমি বলছি, বাংলাদেশ সরকারের কাছে সাংবাদিক হিসেবে যারা নিবন্ধিত, তাদের জন্য বলছি। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনে কিংবা কোনো সংস্থায় যারা সাংবাদিকতা করেন, তাদের কথা বলছি।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ক্ষমতার প্রয়োজন
গোপন অনুসন্ধান করা হয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। সেই প্রোগ্রামগুলো আমরা দেখি। হাতের নাগালে আসামি পাওয়া গেলেও সাংবাদিকদের তেমন কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকার কারণে তারা তাদের ধরতে বা আটক করতে পারেন না। বরং অনেক সময় সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হয়।
দেশের সাংবাদিকদের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে উন্নতি কীভাবে হবে? অনেক মানুষ টাকা-পয়সা খরচ করে সাংবাদিকদের পকেটে ভরে রাখে। এ ব্যাপারেও সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো সাংবাদিক যদি এমন গর্হিত কাজ করেন, তার জন্য কঠোর জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যেমন সাংবাদিকদের সুযোগ দেওয়া হবে, তেমনই তারা আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করলে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
অপরাধের সময় সাংবাদিকদের ভূমিকা
ধরেন, কোনো সাংবাদিকের সামনে একটি খুন হলো। সাংবাদিক কী করলেন—সেটা ভিডিও করলেন এবং খবর হিসেবে প্রচার করলেন। কিন্তু যে খুন করল, সে কয়েক দিনের মাথায় দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেল। ভুক্তভোগী কে হলো? যে পরিবারে খুনটি হলো, তারা। সুতরাং এটা কোন সিস্টেম হলো?
প্রয়োজনে সাংবাদিকদের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহনের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। লাইসেন্স ও কঠোর নিয়মের আওতায় এই সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। কোনো অপরাধী সাংবাদিককে যদি আক্রমণ করে কিংবা সাংবাদিকের সামনে যদি এমন কোনো ঘটনা—যেমন খুন—ঘটে, তবে সাংবাদিক যেন আইনসম্মতভাবে অপরাধীকে আটকাতে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে পারেন। কারণ, সব সময় তো সব জায়গায় পুলিশ থাকে না।
কিন্তু সাংবাদিকরা তো সব সময় বাইরেই কাজ করেন। দিন নেই, রাত নেই—তারা কঠোর পরিশ্রম করে ভালো-মন্দ খবর সংগ্রহ করেন। সুতরাং এটা শুধু আমার চাওয়া হওয়া উচিত নয়, এটা আমার মনে হয় সারা দেশের জনগণের চাওয়া। আসলে পুরো দেশের সমগ্র সিস্টেমকে যদি জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, দেশের শাসনব্যবস্থা এমনিতেই পরিবর্তন হয়ে যাবে। অপরাধ কমে যাবে। ভালো খবর ছাড়া খারাপ খবর প্রকাশ করার মতো খবরই থাকবে না। সারা মাসে একটা খুনের খবরও থাকবে না পত্রিকায়। এমন দেশ হলে বাংলাদেশটা হবে সোনার দেশ।
সাংবাদিকদের ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহিও থাকতে হবে
সাংবাদিকদের সব রকমের প্রশাসনিক সুবিধা দিতে হবে। তাহলে লাখো সাংবাদিক হয়ে উঠবেন দেশের জন্য একান্ত দরকারি ব্যক্তি। কারণ, মানুষ সাংবাদিকদের ভয় পাবে। খারাপ কাজ করার সুযোগ থাকবে না। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনে যেকোনো খারাপ কাজ বা খারাপ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার হবে। তাহলে মানুষ ভয় পাবে। আর ভয় পেলেই কেবল খারাপ মানুষ ভালোতে পরিণত হয়—এমন একটি পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
মূল কথা হলো, বাংলাদেশে আয়তনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ বাস করে। ইসরাইলে মাত্র ১ কোটির মতো মানুষ বাস করে এবং সারা পৃথিবীকে তারা ভয় দেখিয়ে বেড়ায়। অথচ আমরা ২০ কোটির বেশি মানুষ। তাদের তুলনায় জনসংখ্যার দিক থেকে আমরা অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী। সুতরাং এই বাংলাদেশের লোকবলের মন-মানসিকতা যদি ভালো হয়, সাংবাদিকরা যদি ক্ষমতা পান এবং সরকার যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে সবকিছু পরিচালনা করে, তাহলে ওই রকম শক্তিশালী দেশকেও আমরা দুই বছরের মধ্যে অনেক পেছনে ফেলতে পারব—এমন বিশ্বাস আমার আছে। আমরা তখন কাউকে ভয় করব না। বরং নিজেদের শক্তি, ঐক্য ও সুশাসনের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে শক্ত অবস্থান তৈরি করব।
আমরা এত এত জনবল থাকতে অন্য একটি দেশকে কেন ভয় করব? আমাদের শক্তি যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে বাংলাদেশও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।
এটি শুধু একটি প্রস্তাব, আরও অনেক বিষয় আছে
সাংবাদিকদের প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া—এটা হচ্ছে মাত্র একটা পয়েন্ট। এরকম আরও অনেক পয়েন্ট আছে। আমি ধীরে ধীরে প্রকাশ করব। আপনারা আপনাদের মতামত জানাবেন।
আমি সাংবাদিকদের স্বার্থের জন্য কোনো কিছু বলিনি। আমি দেশের স্বার্থের জন্য বলেছি। একবার এই ছোট মানুষটার বুদ্ধিটাকে কিছুদিনের জন্য কাজে লাগিয়েই দেখুন না, কী পরিমাণ অপরাধ কমে যায়, তা বুঝতে পারবেন।
পরিশেষে সকল সাংবাদিক ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনাদের আমার চাওয়া মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হোক বা না হোক, আপনারা নিজ নিজ জায়গায় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যান। পৃথিবীতে এর প্রতিদান না পেলেও পরকালে আল্লাহ অবশ্যই দেবেন।
আপনারা সব সময় সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। আপনাদের জন্য অনেক অনেক দোয়া ও ভালোবাসা রইল।
লিখেছেন: মোঃ আজগর আলী


