অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির খোঁজ করতে গিয়ে ছুটে চলা এক মানুষ আমি। ছোটবেলায় যখন কিছুই বুঝতাম না, তখন ভাবতাম—না জানি পৃথিবীটা কত সুন্দর! বড় হলে কতই না আনন্দ উপভোগ করতে পারব। কতই না সুখ-শান্তি পাব। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে—আমি এক অশান্ত পৃথিবীতে বাস করছি। আমার নিজেরই যখন নিরাপত্তা নেই, তখন আমি আর কার পাশে দাঁড়াব, আর কাকেই বা সাহায্য করব?
নিজের চোখের জলেই যখন ক্লান্ত
আমি তো নিজেই আমার চোখের জল মুছতে মুছতে ক্লান্ত। আমি আর কার চোখের জল মুছব? এই অশান্ত পৃথিবী আমাকে একদম শান্ত করে দিচ্ছে, কিন্তু সেই শান্তি স্বস্তির নয়—এ যেন অসহায় হয়ে যাওয়ার শান্তি। আমাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমার অন্তরের মধ্যে ফুটে ওঠা শত পদ্মকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।
কখনো কখনো মনে হয়, মানুষের ভেতরে যে স্বপ্ন, ভালোবাসা, মায়া আর সুন্দর কিছু করার ইচ্ছা থাকে, চারপাশের বাস্তবতা ধীরে ধীরে সেগুলোকে মেরে ফেলে। মানুষ তখন বেঁচে থাকে ঠিকই, কিন্তু তার ভেতরের অনেক কিছু আর বেঁচে থাকে না।
চারপাশে শুধু হাহাকার
যখন আমার চারপাশে তাকাই, আমি অবাক হয়ে যাই। মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছাড়া আর বাকি সবাই যেন হাহাকারে ডুবে আছে। তাদের যেন সমস্যার শেষ নেই। তারা কাউকে কিছু বলতে পারছে না। নিজের যন্ত্রণা নিজের কাছে রেখেই ছটফট করছে। আর আমি তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না। কারণ, আমার নিজেরই তো কিছু নেই—আমি কী নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াব?
কেউ অর্থের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, কেউ পরিবারের সমস্যায়, কেউ কর্মসংস্থানের অভাবে, কেউ আবার নিজের কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়ছে। বাইরে থেকে অনেক মানুষকে স্বাভাবিক মনে হলেও, তাদের বুকের ভেতর কতটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা আমরা কেউ জানি না।
পৃথিবীর কোথাও যেন পূর্ণ শান্তি নেই
পৃথিবীতে যতগুলো দেশ রয়েছে, কোনোটিই যেন পুরোপুরি ভালো নেই। কোথাও টাকা আছে তো ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সংকট রয়েছে। কোথাও ধর্মীয় মূল্যবোধ আছে তো অর্থনৈতিক সংকট। কোথাও ইনকামের সোর্স আছে তো হালালভাবে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। কোথাও বিশুদ্ধ পানি আছে তো নিরাপদ পরিবেশ নেই। কোথাও উন্নত প্রযুক্তি আছে, কিন্তু মানুষের মধ্যে মানবিকতা কমে যাচ্ছে।
পৃথিবীর অবস্থা বড়ই করুণ, যা আমি আমার অল্প বয়সেই অনুধাবন করছি। প্রযুক্তি যত এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষের জীবন তত সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, মানুষের মনে শান্তি যেন ততই কমে যাচ্ছে।
মানুষ মানুষের শত্রু হয়ে যাচ্ছে
পরিবার থেকে শুরু করে পৃথিবীর সব জায়গায় শুধু সমস্যা আর সমস্যা। কেউ কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে চায় না। সামান্য টাকার জন্য মানুষ মানুষকে খুন করছে। সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে মানুষ মানুষকে ভয়াবহভাবে আঘাত করছে। এখন মানুষ সত্য বলতে ভয় পায়। না জানি, কেউ এসে তার গলাটা চেপে ধরে।
যে সমাজে সত্য কথা বলার আগে মানুষকে নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয়, সেই সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা না করে পারা যায় না। মতের অমিল থাকবে, তর্ক থাকবে, ভুল থাকবে—কিন্তু তার জন্য মানুষের জীবন বা সম্মান কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি কখনোই সুন্দর পৃথিবীর লক্ষণ হতে পারে না।
অন্যায়ের সামনে নীরব হয়ে যাই
যে ব্যক্তি ৫ কেজি ওজন বহন করার ক্ষমতা রাখে, সে ২০ কেজির কথা বলে বেড়ায়। যার দৈনিক ইনকাম ৫০০ টাকা, সে বিপথে গিয়ে ৫,০০০ টাকা ইনকাম করে। কয়েক মাসেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
আমি এসব দেখি, শুনি, কিন্তু বলার সাহস রাখি না। কারণ, বললেই আমি খুন হয়ে যেতে পারি, কিংবা এই সুন্দর পৃথিবী থেকে নাই হয়ে যেতে পারি—এই ভয়টা কখনো কখনো আমাকে গ্রাস করে।
তবুও মনে হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো মানুষ যদি সবাই ভয় পেয়ে চুপ করে যায়, তাহলে অন্যায় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো কঠিন, কিন্তু সত্যকে সম্পূর্ণ একা করে দেওয়া আরও ভয়ংকর।
আল-কোরআনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি
আল-কোরআন আল্লাহ প্রদত্ত বাণী, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য জীবনবিধান। কিন্তু কতিপয় মানুষ ছাড়া অনেকেই তা যথাযথভাবে মানছে না। বেশিরভাগ মানুষই যেন ধীরে ধীরে বিপথে চলে যাচ্ছে। চোখের সামনে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সৎ পথে ডাকার মতো মানুষও যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে।
হে আল্লাহ, এ কোন আজব পৃথিবীতে আমাকে পরীক্ষার জন্য পাঠালে! আমি তো নিজেকেই সঠিক জায়গায় আবদ্ধ রাখতে পারছি না। নিজের নফস, নিজের দুর্বলতা, নিজের চারপাশের প্রলোভন—সবকিছুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে।
সম্পর্কের ভেতরেও অনাস্থা
ঘরের স্ত্রী এখন অনেক সময় তার স্বামীর কথা শুনতে চায় না। স্বামীও অনেক সময় স্ত্রীর অনুভূতি ও সম্মানকে গুরুত্ব দেয় না। মন চাইলেই মানুষ যা ইচ্ছে তাই করে ফেলে। মাঝে মাঝে ভয়াবহ সব খবর শুনে নিজের কাছের মানুষগুলোর প্রতিও খানিকটা ভয় চলে আসে।
নিজের মনকেই কখনো কখনো নিজে বিশ্বাস করতে পারি না। সম্পর্কের ভিত্তি যদি ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্মান ও দায়িত্ববোধ না হয়ে শুধু নিজের স্বার্থ হয়, তাহলে সেই সম্পর্ক যত কাছেরই হোক, একদিন না একদিন তার ভেতরে ফাটল ধরবেই।
হালাল রুজির পথ যেন সংকুচিত হচ্ছে
হালাল রুজি-রোজগারের পথ কমে যাচ্ছে। মানুষ যাবে কোথায়? হাজারটা মিথ্যুক মানুষের সঙ্গে হাতে গোনা কয়েকজন সত্যবাদী মানুষ কীভাবে টিকে থাকবে?
সুন্দর পৃথিবী তো তাদের জন্য মহা অসুন্দর হয়ে উঠছে। কেউ সৎ থাকতে চায়, কিন্তু সৎ থাকার মূল্য দিতে গিয়ে তাকে অনেক কিছু হারাতে হয়। কেউ অন্যায় করতে চায় না, কিন্তু চারপাশের চাপ তাকে দুর্বল করে দেয়। অথচ হালাল উপার্জন শুধু অর্থের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের আত্মসম্মান, বিবেক ও জীবনের শান্তিও জড়িয়ে আছে।
শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতাও প্রয়োজন
স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আধুনিক সব পড়াশোনা শেখানো হচ্ছে। কিন্তু সেই শিক্ষার সঙ্গে কতটা নীতিবোধ, মনুষ্যত্ববোধ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ শেখানো হচ্ছে, তা আমার অজানা।
তবে আমার মনে হচ্ছে—শুধু ভালো ফলাফল, ভালো চাকরি কিংবা বেশি টাকা উপার্জনের শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বাচ্চাদের মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে। ইসলামী শিক্ষা না দেওয়া হলেও অন্তত তাদের মনুষ্যত্ববোধ, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, অন্যের প্রতি সম্মান এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানো হোক। কারণ, একজন শিক্ষিত মানুষ যদি অন্যায় করে, তাহলে তার শিক্ষা সমাজকে কতটা উপকার করছে—এই প্রশ্ন থেকেই যায়।
সুখের সন্ধানে মানুষ, কিন্তু শান্তি কোথায়?
জীবন শান্তির জন্য পিপাসাময় হয়ে যাচ্ছে। মানুষ তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকছে। কিন্তু যাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য এত ব্যস্ত থাকছে, শেষ পর্যন্ত অনেক সময় তারাই ছেড়ে যাচ্ছে।
বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কেও ফাটল ধরছে। নিম্নশ্রেণি থেকে উচ্চশ্রেণি—সব শ্রেণির মানুষই যেন ধীরে ধীরে স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীকেই তারা সবকিছু মনে করছে। পৃথিবীকে ভালোভাবে বাঁচার জায়গা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া খারাপ নয়; কিন্তু পৃথিবীকে সুন্দর করে সাজানোর দায়িত্বটাও তো আমাদের।
অথচ আমরা অসুন্দর পরিবেশে, অশান্ত সমাজে, ভাঙা সম্পর্কের মধ্যে সারাক্ষণ সুখ অন্বেষণ করছি। টাকা দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু শান্তি, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা সবসময় কেনা যায় না।
আমি এই পৃথিবীতে বিচলিত
এ ধরায় আমি বিচলিত। আমি কখনো কখনো নিজেকে নির্বোধ মনে করি। এত কিছু দেখেও কী করব বুঝতে পারি না। জীবনের কষ্ট যখন অসহ্য হয়ে ওঠে, তখন মানুষের মনে নানা ধরনের অন্ধকার চিন্তা আসতে পারে। কিন্তু নিজেকে শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। জীবন আল্লাহর দেওয়া আমানত, আর যত কঠিন সময়ই আসুক, সেই আমানতকে রক্ষা করার চেষ্টা করাই আমাদের দায়িত্ব।
নিজেকে শেষ করে দিলে সমস্যাগুলো শেষ হয়ে যায় না; বরং আরও নতুন সমস্যা তৈরি হয়। তাই অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলোর সন্ধান করা উচিত। মানুষের উচিত বিপদের সময়ে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা, সাহায্য চাওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির খোঁজ আমাদের অবশ্যই করতে হবে। কারন, কিছুটা হলেও আল্লাহতায়ালা শান্তি রেখেছেন।
শেষ যুগের কথা মনে পড়ে
আমি শেষ যুগের কিছু বর্ণনা পড়েছি। অনেক সময় আমার মনে হয়, সেই নিকৃষ্টতম সময়ের কিছু লক্ষণ যেন আমাদের চারপাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ক্ষমতাবলে কেউ কাউকে সামান্য ছাড় দিচ্ছে না। মন চাইলেই অন্যের চরম ক্ষতি করছে। সীমালঙ্ঘন করছে।
কেউ যেন দেখার নেই, কেউ যেন বলার নেই। অসহায় আজ চরম অসহায়। দুর্নীতিবাজরা আজ উচ্ছ্বসিত। তবে একই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে—আমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়কে নিশ্চিতভাবে শেষ যুগ বলে ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখি না। এসব বিষয়ে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞান রাখেন। আমাদের দায়িত্ব হলো নিজেদের সংশোধন করা এবং অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়ের পথে থাকা।
হে আল্লাহ, আমাকে সাহস দাও
হে আল্লাহ, আমি তো প্রতিনিয়ত কেঁদেই চলেছি। আমাকে তুমি রক্ষা করো। এই সুন্দর পৃথিবীতে আমার জন্য যে কয়টা দিন তুমি বরাদ্দ রেখেছো, সেই কয়টা দিন আমি যেন সাহস করে বাঁচতে পারি। আমি যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারি। আমি যেন আমার দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধ সঠিকভাবে পালন করতে পারি। অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির খোঁজ করতে গিয়ে আমি যেন এমন কোন কাজ না করে ফেলি যা তুমি অপছন্দ করো।
আমার মৃত্যু যেন অসম্মানের সঙ্গে না হয়। আমি যেন সত্য কথা সাহস করে বলতে পারি। আমাকে তুমি সাহস দাও। আমি যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারি, রুখে দাঁড়াতে পারি। আমাকে তুমি সেই শক্তি দাও।
পৃথিবীতে শান্তি ফিরুক
পৃথিবীতে যত কঠোর শাসক রয়েছে, তাদের মন তুমি নরম করে দাও, আল্লাহ। তারা যেন নিপীড়িতদের ওপর আর কোনো নিপীড়ন না করে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো যেন বাঁচতে পারে। অসহায় মানুষ যেন তার অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে। কেউ যেন ক্ষুধার কারণে, যুদ্ধের কারণে কিংবা অন্যায়ের কারণে নিজের ঘরবাড়ি ও আপনজন হারাতে না হয়।
আমরা যেন তোমার পথে থেকে বাঁচতে পারি। হে আল্লাহ, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। তুমি এই অশান্ত পৃথিবীকে শান্ত করে দাও। সব যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ দাও। অসহায়ের আর্তনাদ কি তোমার কাছে যায় না? তুমিই তো সকল কিছুর ঊর্ধ্বে, তুমিই আমাদের একমাত্র ভরসা।
আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করো। আমাদের অন্তরকে নরম করে দাও। আমরা যেন অন্যের কষ্ট বুঝতে পারি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি এবং নিজের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারি।
হে আল্লাহ, আমাদের এমন শক্তি দাও, যাতে অশান্তির মাঝেও আমরা শান্তির কথা বলতে পারি। অন্যায়ের ভিড়েও আমরা ন্যায়ের পথে থাকতে পারি। মিথ্যার ভিড়েও আমরা সত্যকে আঁকড়ে ধরতে পারি। পৃথিবী যতই অন্ধকার হোক, আমাদের অন্তরের আলো যেন নিভে না যায়।
আমরা কেউ যেন তোমার আদেশ-নিষেধের বাইরে না যাই। অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির খোঁজ করতে গিয়ে আমরা যেন তোমাকেই না ভুলে যাই। আমাদের পরিবার, সমাজ ও পৃথিবীকে শান্তি, নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও মানবিকতায় ভরে দাও। আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করো এবং সঠিক পথে চলার তৌফিক দাও (আমিন)।
আরও পড়ুন: জীবনে কেমন মানুষের উপর ভরসা করা উচিত


