আমরা এখন যে যুগে বাস করছি, সেই যুগে ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট সেবা এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। তাই আমরা যদি এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে না জানি, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে থাকব।
এখন যারা কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নিয়ে পড়াশোনা করছে, তাদের হিসাবটা আলাদা। তারা তো এসবের ব্যবহার সম্পর্কে জানছেই। কিন্তু যারা সাধারণ নাগরিক, তাদের আসলে কতটুকু ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন? আমার এই লেখায় মূলত সেটাই তুলে ধরব।
প্রায় সবার হাতেই এখন অ্যান্ড্রয়েড ফোন
বাংলাদেশের কথা যদি চিন্তা করি, তাহলে বলা যায়—দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে। প্রায় ঘরে ঘরেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন রয়েছে। এখন যাদের ঘরে অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে, তারা যদি এই ফোনটির সঠিক ব্যবহারই না জানেন, তাহলে এত টাকা দিয়ে ফোন কেনার আসল সুবিধাটা কী?
অন্তত ফোনটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে কারও সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা যায়, কীভাবে ইন্টারনেটে কোনো কিছু সার্চ করে বের করতে হয়—এসব বিষয় জানা প্রয়োজন।
শুধু ফোনে ফেসবুক, ইউটিউব বা মেসেঞ্জার চালাতে পারলেই কিন্তু স্মার্টফোনের ব্যবহার জানা হয়ে যায় না। একটি স্মার্টফোনকে প্রয়োজনের সময় তথ্য খোঁজা, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অনলাইন সেবা গ্রহণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারাটাই আসল দক্ষতা।
একটি বাস্তব ঘটনা আমাকে নতুন করে ভাবিয়েছে
ছোট্ট একটা ঘটনা শেয়ার করি। আমি আমার স্ত্রীসহ ঢাকায় বাস করি। ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে আমি চাকরি করি। কিছুদিন আগে হঠাৎ আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তার প্রস্রাবে সমস্যা হচ্ছিল। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাব হওয়া, চুলকানি, মাথাব্যথা, শরীর ভালো না লাগা, রুচি না থাকা—এমন আরও বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিয়েছিল।
শুরুতে আমি পরিচিতদের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ কিনে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তেমন উপকার হলো না। পরে একজন ডাক্তার দেখালাম। তিনি কিছু পরীক্ষা করতে দিলেন এবং বললেন, পরীক্ষাগুলো দ্রুত করানো প্রয়োজন।
আমার স্ত্রীর যে লক্ষণগুলো দেখা দিচ্ছিল, সেগুলো নিয়ে আমি ইন্টারনেটে সার্চ করেছিলাম। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পড়ে আমার ধারণা হয়েছিল, এটি মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের (UTI) মতো কোনো সমস্যা হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের তথ্য দেখে নিজে রোগ নিশ্চিত করা যায় না—চূড়ান্তভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাস্তার সমস্যার মধ্যেও অনলাইন সেবার সুবিধা
সেই সময় আবার আমি যে এলাকায় থাকি, সেখানে রাস্তা-ঘাটের কাজ চলছিল। রাস্তার মাঝখানে খুঁড়ে বড় বড় পাইপ বসানো হচ্ছিল পানি নিষ্কাশনের জন্য। ফলে রাস্তায় চলাচল করা ছিল বেশ কঠিন। তার ওপর ছিল বর্ষাকাল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল।
আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ভালো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে—যেমন পপুলার, ইবনে সিনা, ল্যাবএইড ইত্যাদি—যাব, সেটাও সহজ হচ্ছিল না। তখন অন্যভাবে চিন্তা করলাম।
আমি জানতাম যে, অনলাইনেও বিভিন্ন ল্যাব টেস্টের জন্য স্যাম্পল কালেকশনের ব্যবস্থা করা যায়। বিশেষ করে ডকটাইম, আরোগ্য, মেডইজি সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে আরোগ্য নামের একটি অ্যাপ ইনস্টল করা ছিল।
সেই অ্যাপটিতে ঢুকে দেখলাম, তারা বাসা থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। আমার স্ত্রী পপুলার থেকেই পরীক্ষা করাতে চাচ্ছিল। তাই আমি অনলাইনে পরীক্ষার জন্য অর্ডার দিলাম।
কয়েকটি বাটন চাপেই ঘরে চলে এলো ল্যাব টেকনোলজিস্ট
আমি যদি ইন্টারনেটের এই ব্যবহারটা না জানতাম, তাহলে নিশ্চয়ই এভাবে অর্ডার করতে পারতাম না।
আমি সকাল ১১টার দিকে অর্ডার করেছিলাম। আর আরোগ্য থেকে একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট দুপুর ৩টার মধ্যেই আমার বাসায় চলে এলেন। রাস্তা-ঘাট এত ভাঙাচোরা থাকা সত্ত্বেও তিনি সময়মতো চলে এসেছিলেন। ব্যাপারটি সত্যিই আমাকে অবাক করেছিল।
তিনি প্রয়োজনীয় স্যাম্পল সংগ্রহ করে নিয়ে গেলেন। সেদিন রাত ১১টার মধ্যেই আমাকে রিপোর্ট দেওয়া হলো। আমি তো ভাবছিলাম, পরের দিন ছাড়া রিপোর্ট পাব না। কিন্তু প্রযুক্তির কারণে সেই অপেক্ষাটাও করতে হলো না।
মোবাইলের মাধ্যমে রিপোর্ট পৌঁছে গেল চিকিৎসকদের কাছে
রিপোর্ট পাওয়ার পর আমি সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে পাঠালাম এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম।
অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকজন চিকিৎসক সাড়া দিলেন। তারা রিপোর্ট ও উপসর্গ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-পরামর্শ দিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সংগ্রহ করা হলো এবং নির্ধারিত সময় ধরে সেবন করার পর আমার স্ত্রীর অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়।
এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল—প্রযুক্তি আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছিল।
আমার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটাকে কতটা কাজে লাগালাম, ভেবে দেখুন
এই ঘটনা থেকে কী বুঝলেন?
আমি আমার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটাকে কতটুকু কাজে লাগালাম, ভেবে দেখুন তো। যে কাজ করতে আমাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হতো, শারীরিক পরিশ্রম করতে হতো, আমার স্ত্রীর কষ্ট হতো—সেই কাজের বড় একটি অংশ আমি মোবাইলের কয়েকটি বাটন চাপ দিয়েই করে ফেললাম। এটা সত্যিই ভাবার মতো বিষয়।
আজকের দিনে স্মার্টফোন শুধু কথা বলা বা ফেসবুক চালানোর যন্ত্র নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি হতে পারে আমাদের ব্যক্তিগত সহকারী, তথ্যভাণ্ডার, শিক্ষার মাধ্যম, যোগাযোগের উপায় এবং অনেক প্রয়োজনীয় অনলাইন সেবার দরজা।
দামি ফোন ব্যবহার করলেই প্রযুক্তি জানা হয় না
আমার দেখা অনেকেই আইফোন ব্যবহার করেন, অথচ অনলাইনে যে কত ধরনের সেবা পাওয়া যায়, সেটাই জানেন না। তাদের ফোনে অ্যাপ স্টোর রয়েছে, কিন্তু তারা কখনো সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় অ্যাপ খুঁজে দেখেন না।
বরং কারও কাছ থেকে ইমো, কারও কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার—এসব অ্যাপ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিয়ে নেন। অথচ অ্যাপগুলো কীভাবে নিজে নিজে খুঁজে বের করতে হয়, কীভাবে ইনস্টল করতে হয়, কীভাবে আপডেট করতে হয়—এসব শেখার চেষ্টা করেন না।
আমি কাউকে অপমান করার জন্য ‘বোকা’ বলছি না। বরং বলতে চাচ্ছি, নিজের হাতে থাকা প্রযুক্তির সামর্থ্য সম্পর্কে না জানাটা সত্যিই দুঃখজনক। কারণ ওই অ্যাপগুলো ব্যবহার করতেও তো শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেটই ব্যবহার করতে হবে!
হে পাবলিক, ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন হোন
সুতরাং হে পাবলিক! আপনারা ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হোন। মোবাইলের সঠিক ব্যবহার জানুন। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শিখুন। কোনো কিছু না জানলে অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজে নিজে সার্চ করে শেখার চেষ্টা করুন। আপনি যত বেশি শিখবেন, তত বেশি স্বাধীনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
ইউটিউব শুধু বিনোদনের জন্য নয়
ইউটিউবের নাম জানেন না—এমন মানুষ খুব কমই আছে। ইউটিউব মূলত ভিডিও দেখার একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রায় সব ধরনের ভিডিওই পাওয়া যায়।
বিভিন্ন হাতের কাজ, রান্না, মোবাইলের ব্যবহার, কম্পিউটার শেখা, পড়াশোনা, ভাষা শেখা, ব্যবসা, কৃষি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সাধারণ তথ্য—আপনি কী চান, তার ওপর ভিত্তি করে অসংখ্য ভিডিও খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
শুধু আপনাকে সঠিকভাবে সার্চ করতে হবে। এই সার্চ করার কাজটা মোটেও এতটা জটিল নয়। নিজে নিজে একটু চেষ্টা করলেই আপনি শিখে যাবেন।
ধরুন, আপনি মোবাইলে বাংলা টাইপ করতে পারেন না। ইউটিউবে গিয়ে ‘মোবাইলে বাংলা টাইপ করার নিয়ম’ লিখে সার্চ করুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অনেক ভিডিও পেয়ে যাবেন।
ফেসবুক ব্যবহার করলেই সব জানা হয়ে যায় না
এমনও অনেক মানুষ আছেন, যারা সারাদিন ফেসবুকে পড়ে থাকেন। কিন্তু তাকে যদি অন্য একটি ফোন দিয়ে বলা হয়, ‘এই ফোনে আপনার ফেসবুক প্রোফাইলটি সার্চ করে বের করে দিন’, তাহলে হয়তো তিনি সেটাও করতে পারবেন না। কারণ তিনি বিষয়টি নিয়ে কখনো ভাবেননি।
ধরুন, কারও নাম ‘আজগর আলী’। ফেসবুকে শুধু এই নাম লিখে সার্চ করলে একই নামে অনেক মানুষের প্রোফাইল আসতে পারে। কিন্তু তার ইউজারনেম জানা থাকলে নির্দিষ্ট প্রোফাইল খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হয়।
যেমন, আমার ফেসবুক ইউজারনেম হলো ‘azgar.korotoya’। এটি দিয়ে ফেসবুকে সার্চ করলে আমার নির্দিষ্ট প্রোফাইল খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। অর্থাৎ ফেসবুক ব্যবহার করা আর ফেসবুক সম্পর্কে জানা—দুটি কিন্তু এক বিষয় নয়।
সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের আসলে কতটুকু জানা প্রয়োজন?
সাধারণ ব্যবহারকারীদের আসলে খুব বেশি কিছু জানার প্রয়োজন নেই। আপনাকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না, প্রোগ্রামিং জানতে হবে না কিংবা প্রযুক্তিবিদও হতে হবে না। কিন্তু স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের কিছু মৌলিক বিষয় অন্তত জানা উচিত। যেমন—
১. ফোন নম্বর সেভ ও খুঁজে বের করা
মোবাইলে কারও নাম্বার সেভ করা এবং প্রয়োজনের সময় সেই নাম্বারটি খুঁজে বের করতে জানতে হবে। এটি খুবই সাধারণ, কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।
২. ইমেইল ও জিমেইল ব্যবহার
ইমেইল অ্যাপ বা জিমেইল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা উচিত। কেউ ইমেইল পাঠালে সেটি কীভাবে দেখতে হয়, কাউকে কীভাবে ইমেইল পাঠাতে হয় এবং প্রয়োজনীয় ফাইল কীভাবে সংযুক্ত করতে হয়—এসব অন্তত জানা দরকার।
৩. ফোন চালু, বন্ধ ও রিস্টার্ট করা
বাজার থেকে একটি ফোন কেনার পর সেটি সঠিকভাবে চালু করা, বন্ধ করা এবং প্রয়োজনে রিস্টার্ট দিতে জানা জরুরি। ছোট মনে হলেও এসব বিষয় দৈনন্দিন ব্যবহারে কাজে আসে।
৪. সিম ও মেমোরি কার্ড সম্পর্কে ধারণা
ফোনে সিম কার্ড ও মেমোরি কার্ড কোথায় লাগাতে হয় এবং কীভাবে খুলতে হয়, সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা ভালো। তবে নতুন ধরনের অনেক ফোনে মেমোরি কার্ডের সুবিধা নাও থাকতে পারে—এ বিষয়টিও জানা দরকার।
৫. প্লে স্টোর ও অ্যাপ ব্যবহার
প্লে স্টোরে কীভাবে প্রবেশ করতে হয়, গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে কীভাবে সাইন ইন করতে হয়, প্রয়োজনীয় অ্যাপ কীভাবে সার্চ করে ডাউনলোড করতে হয় এবং অ্যাপ কীভাবে আপডেট করতে হয়—এসব জানা প্রয়োজন।
কোনো অ্যাপ ব্যবহারের জন্য অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হলে কীভাবে নিরাপদভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়, সেটাও জানা উচিত।
৬. ফোনের সেটিংস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা
মোবাইল ফোনের সেটিংস সম্পর্কে টুকিটাকি জানা প্রয়োজন। যেমন—ওয়াই-ফাই চালু বা বন্ধ করা, মোবাইল ডাটা নিয়ন্ত্রণ করা, ব্লুটুথ ব্যবহার করা, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা পরিবর্তন করা, শব্দের মাত্রা ঠিক করা, স্টোরেজ দেখা ইত্যাদি।
একদম ভেতরের জটিল সেটিংসগুলো সম্পর্কে জানতেই হবে—এমন কোনো কথা নেই। সাধারন সেটিংসগুলো জানলে ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়টি ত্বরাণ্বিত হবে। আর এটি জানলে বাকি সব বিষয় ধীরে ধীর সহজ হবে।
৭. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার
সঠিকভাবে ফেসবুক ব্যবহার জানা প্রয়োজন। শুধু ফেসবুক নয়, যত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রয়েছে, সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কেও অন্তত মৌলিক ধারণা থাকা ভালো।
একই সঙ্গে প্রাইভেসি সেটিংস, পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তা, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা এবং অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার বিষয়গুলোও জানা জরুরি।
৮. শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার মনিটর করা
বাচ্চাদের হাতে ফোন থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তারা অনলাইনে কী দেখছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কোনো ক্ষতিকর বা অনুপযুক্ত কনটেন্টের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে কি না—সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখা প্রয়োজন।
এটি সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। কারণ অনেক অভিভাবক নিজেরাই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না। ফলে সন্তান কী করছে, সেটাও অনেক সময় বুঝতে পারেন না।
তাই সন্তানকে শুধু ফোন দিয়ে দিলেই হবে না; অভিভাবকদেরও প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছুটা জানতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানতে হবে বিশেষ করে বাচ্চাদের ভালোর জন্য।
৯. ছবি, ভিডিও, রেকর্ডিং ও পিডিএফ ব্যবহার
মোবাইলে ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা, অডিও রেকর্ড করা, ছবি বা ফাইল অন্যকে পাঠানো—এসব বিষয়ে জানা প্রয়োজন। ব্যক্তি জীবনে এবং কর্মক্ষেত্রে এসব বিষয় বিভিন্ন সময় কাজে লাগে। এ ছাড়া পিডিএফ ফাইল কী, কীভাবে পিডিএফ খুলতে হয়, কীভাবে ডাউনলোড ও শেয়ার করতে হয়—এসবও জানা উচিত।
১০. গুগলে সঠিকভাবে সার্চ করা
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলব—গুগলে যেকোনো প্রয়োজনীয় বিষয়ে সার্চ করে তথ্য বের করার ক্ষমতা থাকা উচিত।
জীবনের যেকোনো সময় এই দক্ষতা আপনার কাজে আসবে। কেউ যদি কিডনি নষ্ট হওয়ার সাধারণ কারণ সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে গুগলে গিয়ে ‘কিডনি নষ্ট হওয়ার কারণ’ কিংবা ‘কিডনি নষ্ট’ লিখে সার্চ করলে অসংখ্য ওয়েবসাইট ও তথ্য সামনে চলে আসবে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—ইন্টারনেটে পাওয়া সব তথ্য সঠিক নয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে শুধু গুগল সার্চের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য উৎস ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এই যুগে গুগলে সঠিকভাবে সার্চ করতে জানা এক ধরনের প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতা। তবে কী সার্চ করছি এবং কোন তথ্য বিশ্বাস করছি—সেটাও বুঝতে হবে।
প্রযুক্তিকে ভয় নয়, কাজে লাগাতে শিখুন
পরিশেষে বলা যায়, সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের উপরের বিষয়গুলো অন্তত জানা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আপনারা যদি এ নিয়ে জরিপ করেন, তাহলে দেখা যাবে—উপরের অনেক বিষয়ই সাধারণ ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ জানেন না। এটা সত্যিই ভাবার মতো বিষয়।
আমরা অনেক সময় অন্যের জীবন নিয়ে আলোচনা করতে, অন্যের সমালোচনা করতে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সেই সময়টুকু ব্যয় করি না।
অথচ প্রযুক্তি শেখা খুব কঠিন কোনো বিষয় নয়। প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময় দিয়েও একজন মানুষ ধীরে ধীরে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের অনেক কিছু শিখতে পারেন।
আমি সচেতন নাগরিক তথা সবাইকে অনুরোধ করব—প্রযুক্তিকে ভয় পাবেন না, প্রযুক্তিকে কাজে লাগান। আপনার পরিশ্রম কমে যাবে, সময় বাঁচবে, কষ্ট কমবে এবং অনেক কাজ ঘরে বসেই করা সম্ভব হবে।
একটি স্মার্টফোন শুধু বিনোদনের যন্ত্র নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি আপনার শিক্ষা, কাজ, যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন জীবনের অসংখ্য সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই অন্যের পেছনে সময় নষ্ট না করে নিজের হাতে থাকা প্রযুক্তিটাকে কাজে লাগাতে শিখুন। নিজে শিখুন, অন্যকেও শেখান। কারণ প্রযুক্তি সম্পর্কে যত বেশি জানবেন, জীবনকে তত সহজ ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: সেযুগ আর এযুগের ছেলেমেয়েদের মধ্যে পরিবর্তন কতটা ভয়াবহ!
