মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত শুক্রবার ভোরে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় করা হয়েছে। আবু ধাবির উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা দুবাইভিত্তিক সাংবাদিক নাতাশা তুরাকের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: কী ঘটছে?
হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় জলসীমায় একাধিক সামরিক সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা গোটা অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। সাংবাদিক নাতাশা তুরাক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, “সোমবার যে ধরনের হামলা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, সেই একই ধরনের আক্রমণ পুনরায় শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” আমিরাত কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক ও সজাগ থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করল আমিরাত
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারিভাবে জানিয়েছে যে শুক্রবার সকালে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লিখেছে:
“এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করছে।”
মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করেছে যে ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন ভূপাতিত করার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকট শব্দ ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অপ্রত্যাশিত শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ইরানের পাল্টা অভিযোগ ও যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
এই ঘটনার বিপরীতে ইরান সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলে যে হামলা হয়েছে, তার পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাত রয়েছে। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপে হামলার ঘটনায় আমিরাতের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে “সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়ার” সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই ধরনের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন শঙ্কা
এই পরিস্থিতি শুধু আরব আমিরাতের জন্য নয়, গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্যই উদ্বেগজনক। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। এই এলাকায় সামরিক সংঘাত বাড়লে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমিরাতের মধ্যে এই পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং সামরিক তৎপরতা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।
পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। প্রবাসীদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় দুর্নীতিবাজ ওসির কাণ্ড: পাঁচ মাসে আড়াই কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস



