গাজীপুর জেলা পরিষদের সিইও নজরুল ইসলামকে জামালপুরে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই বদলির সিদ্ধান্ত এলো, যদিও তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ এখনো শেষ হয়নি।
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, গাজীপুর
ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ নিয়ে পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে জামালপুরে বদলি করেছে। তবে এই বদলি সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বদলির প্রজ্ঞাপন যেভাবে জারি হলো
গত সোমবার, ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিনা আক্তার।
কী কী অভিযোগ উঠেছিল নজরুলের বিরুদ্ধে
এর আগে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- সরকারের পূর্বানুমতি না নিয়েই জেলা পরিষদের এফডিআর ভেঙে ফেলা
- ঘুষের বিনিময়ে একটি কারখানা কর্তৃপক্ষকে সরকারি জমি ইজারা প্রদান
- ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি
- বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা
তদন্ত কমিটি গঠন ও অগ্রগতি
এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা গত ১৮ মে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিভাগের একজন পরিচালককে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে বহাল থাকা অবস্থায় নজরুল ইসলাম নিজের প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছেন এবং তদন্তকাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য মেলেনি
এই বদলি ও অভিযোগ সংক্রান্ত বক্তব্য জানতে সিইও নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

