জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই অডিও রেকর্ড দাখিল করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের পৃথক ফোনালাপ হয়। সেই কথোপকথনের অডিওই আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত কল রেকর্ডের বর্ণনা অনুযায়ী, ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে সাদ্দাম হোসেন জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এরপর প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অডিওতে শোনা যায়, ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?” সাদ্দাম পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি আবারও বলেন, “তা মারতেছ না কেন? নিজ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে আসামি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে।

