পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে মাত্র ৬ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু। নিহত শিশুর নাম পাপড়ী রানী রায়। বাবার খোঁজে সড়ক পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলেই ট্রাকটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা-পাঁচকল এলাকায় বোদা-দেবীগঞ্জ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সন্ধ্যার আলো-আঁধারির মধ্যে বোদা থেকে দেবীগঞ্জের দিকে ছুটে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক সড়ক পারাপারের সময় পাপড়ীকে সরাসরি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ওই সময় পাপড়ীর বাবা সেবেন্দ্র নাথ রায় সড়কের পাশে জমিতে শুকোতে দেওয়া ভুট্টা জড়ানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বাবাকে ডাকতে কিংবা তাঁর কাছে যেতেই রাস্তা পার হচ্ছিল ছোট্ট পাপড়ী। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতির বালুবাহী ট্রাকটি শিশুটিকে পিষে দিয়ে যায়। চালক ও তার সহযোগী ট্রাক ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।
জনতার বিক্ষোভ ও ট্রাকে অগ্নিসংযোগ
নিজের চোখের সামনে সন্তানকে হারানোর আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। চালক পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা পরিত্যক্ত ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ট্রাকটি আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলতে থাকে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ট্রাকটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নিহত শিশুর পরিচয়
নিহত পাপড়ী রানী রায় দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা-পাঁচকল এলাকার বাসিন্দা সেবেন্দ্র নাথ রায়ের একমাত্র মেয়ে। সে স্থানীয় সোনাপোতা ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সবে বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখা এই শিশুর অকালমৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশের বক্তব্য
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি পুড়িয়ে দেওয়া ট্রাকটি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পলাতক চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
একই দিনে তেঁতুলিয়ায় আরও একজনের মৃত্যু
একই দিন মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় আরও একটি যানবাহন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আনোয়ার হোসেন (২১) নামের একজন তরুণ শ্রমিক। শালবাহান ইউনিয়নের ধারাগছ এলাকায় ট্রাক্টরচাপায় নিহত আনোয়ার হোসেন ওই ইউনিয়নের ঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম আলীর ছেলে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সড়ক নিরাপত্তায় উদ্বেগ
একই জেলায় একদিনে দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণহানি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষত গ্রামীণ সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি, চালকদের অসতর্কতা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়রা দ্রুততার সাথে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভূমিসেবায় আর দুর্নীতি নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহজ হচ্ছে জমির সব সেবা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

