দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সরকার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, ঢাকা-সিলেট রেলপথে শিগগিরই ডাবল লাইন চালু করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে রেলযোগাযোগ আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে বলে সরকার আশাবাদী।
শনিবার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান। সমাবেশে সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
রেলপথ আধুনিকায়ন: নতুন যুগের সূচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে রেলযোগাযোগ সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন চালু হলে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব কমবে এবং যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনও সহজ ও কম ব্যয়বহুল হবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক যোগাযোগ উন্নত করার পাশাপাশি রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কারণ অতিরিক্ত সড়ক নির্মাণ করলে দেশের মূল্যবান কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রেল হলো পরিবেশবান্ধব এবং তুলনামূলকভাবে কম জমিতে বেশি যাত্রী পরিবহনে সক্ষম একটি গণপরিবহন মাধ্যম।
সিলেটের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প
সুরমা নদীর তীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরীতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হবে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সিলেটবাসী যে জলজটের ভোগান্তি পোহান, সেই দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সিলেট অঞ্চলে খাল খনন কর্মসূচিও পরিচালনা করছে সরকার বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ
সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, অচিরেই সিলেট মেডিকেল কলেজে ২৫০ শয্যার একটি নতুন হাসপাতাল চালু করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে এটিকে ১ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা এই অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুধু সিলেট নয়, সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।
ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ গড়তে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেটের মাটি থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচিতে সারাদেশের প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু অংশ নেবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করে তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধিকারী ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ় অঙ্গীকার
ক্ষমতায় আসার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিশু জন্মের আড়াই মাসে হাঁটতে শেখে না, কিন্তু এই সরকার সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্রিয় হয়েছে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা: পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ফসল, বিপদের মুখে পাঁচ নদী

