দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। তবে মূল সিরিজের আগে অনুষ্ঠিত একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেই ব্যাটিং দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অভিজ্ঞ ব্যাটারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মাঝেও মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে সম্মানজনক সংগ্রহ গড়েছে সফরকারীরা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডারউইনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ৭ রানের মাথায় কোনো রান না করেই বিদায় নেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। হ্যানো জ্যাকবসের বলে স্যাম কন্সটাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
অন্য ওপেনার সাদমান ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৪৭ বল মোকাবিলা করে ৩১ রান করার পর কোরি রকিচোলির শিকার হন তিনি। এরপর মুমিনুল হক ১৬ রান করে ফিরে গেলে চাপ আরও বাড়ে বাংলাদেশের ওপর। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও ব্যর্থ হন; মাত্র চার বল খেলে রানের খাতা না খুলেই আউট হন তিনি। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ৭৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে সফরকারীরা।
এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অমিত হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। শান্ত ৩৭ এবং অমিত ১৫ রান করে আউট হলে আবারও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। পরে সৌম্য সরকারও ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরলে বড় সংগ্রহের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও তিনি ধৈর্য ও আক্রমণের দারুণ সমন্বয়ে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। ১৪১ বল মোকাবিলা করে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১০৯ রান করেন এই অলরাউন্ডার। তার অনবদ্য শতকের সুবাদে বাংলাদেশ ৭৫.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে তোলে ২৬৩ রান।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অফস্পিনার কোরি রকিচোলি। তিনি একাই শিকার করেন ৬টি উইকেট। এছাড়া দলের বাকি চার বোলার একটি করে উইকেট তুলে নেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বাগতিক একাদশের কোনো ক্রিকেটারেরই এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি। তবু তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপ প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি।
মিরাজের লড়াকু সেঞ্চুরি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হলেও, মূল টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ব্যাটিং বিভাগের ধারাবাহিকতা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন করে ভাবতে হবে। প্রস্তুতি ম্যাচের এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে সফল হতে হলে ব্যাটারদের আরও দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলতে হবে।

