বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে পাঁচবারের শিরোপাজয়ী ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ জাপান। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা সেলেসাওদের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই। একবার হারলেই শেষ হয়ে যাবে স্বপ্নযাত্রা, ফিরতে হবে দেশে। গ্রুপপর্বের গণ্ডি পার করা ৩২ দলের প্রত্যেকের জন্যই এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচ কার্যত ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ।
আজ সোমবার (২৯ জুন) রাতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টন স্টেডিয়ামে জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচ জিতলেও সামনের পথ যে মসৃণ হবে না, সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি নিজেই। তবে এই ইতালিয়ান কোচের মনোযোগ এখন পুরোপুরি জাপান ম্যাচ ঘিরেই, পরের রাউন্ড নিয়ে এখনই বেশি ভাবতে চাইছেন না তিনি।
জাপানকে টপকাতে পারলেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হবে ব্রাজিলের। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা দলটির জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষা এখন ২৪ বছরে গিয়ে ঠেকেছে। এই দীর্ঘ সময়ে একবার মাত্র ২০১৪ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পেরেছিল তারা, বাকি প্রতিটি বিশ্বকাপেই কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে গেছে ব্রাজিলের পথচলা। এবারের আসর আরও কঠিন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে—কেননা ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে পার হতে হবে শেষ ৩২ এবং শেষ ১৬-এর বাড়তি দুটি বাধা।
শেষ ষোলোয় নরওয়ে বা আইভরি কোস্ট, কোয়ার্টারে সম্ভাব্য ইংল্যান্ড
জাপানকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে গেলে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। আগামীকাল মঙ্গলবার রাত ১১টায় এই দুই দল নিজেদের মধ্যে মুখোমুখি হবে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে, এবং সেই ম্যাচের জয়ী দলই শেষ ষোলোয় খেলবে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে।
এই বাধা পার করে কোয়ার্টার ফাইনালে গেলে ব্রাজিলের সামনে পড়তে পারে ইংল্যান্ড অথবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। শক্তির বিচারে ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ডকেই এখানে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা, ফলে কোয়ার্টারে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা
তবে সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাবনাটি তৈরি হচ্ছে সেমিফাইনাল নিয়ে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেমেছে এবং গ্রুপপর্বে শতভাগ জয় নিয়ে এগিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে, যারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই চমক দেখিয়েছে।
সবকিছু পূর্বনির্ধারিত পথে এগোলে সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হতে পারে ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। আর তা হলে নিশ্চিতভাবেই কোটি কোটি ভক্তের প্রিয় একটি দল সেখানেই থেমে যাবে। যে দল এই ম্যাচ জিতবে, তারা ফাইনালে উঠবে ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ১টায়।
টুর্নামেন্টের বাকি সূচি
২৮ জুন দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া শেষ ৩২ পর্বের লড়াই চলবে আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত। এরপর শেষ ষোলোর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৮ জুলাই পর্যন্ত। কোয়ার্টার ফাইনাল হবে ৯ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে, আর সেমিফাইনাল মঞ্চস্থ হবে ১৫ ও ১৬ জুলাই। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জুলাই দিবাগত রাতে, ফাইনালের ঠিক একদিন আগে।
গ্রুপপর্বে দাপট দেখিয়ে এসেছে ব্রাজিল
‘সি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপপর্বে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করলেও বাকি দুই ম্যাচে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল আনচেলত্তির শিষ্যরা—হাইতি ও স্কটল্যান্ড, দুই দলকেই তারা উড়িয়ে দিয়েছে সমান ৩-০ গোলের ব্যবধানে। এই পারফরম্যান্স নকআউট পর্বের আগে দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: নকআউটের দ্বারপ্রান্তে ব্রাজিল, শেষ ম্যাচে কী করতে হবে সেলেসাওদের?

