জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের কোনোভাবেই বাধা কিংবা বালুর ট্রাক ফেলে আটকে রাখা যাবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (২৯ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক বাধা ও সংঘাতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ফেসবুক পোস্টে যা বললেন আসিফ মাহমুদ
পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, বালুর ট্রাক সরানো সহজ কাজ নয় বটে, তবে তাদেরকে সেভাবে আটকে রাখা সম্ভব হবে না। মাত্র কয়েক লাইনের এই পোস্টেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রশাসনিক কিংবা রাজনৈতিক যেকোনো ধরনের বাধা সত্ত্বেও দলের কর্মসূচি থেমে থাকবে না। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। অনেকেই মন্তব্যের ঘরে এই বক্তব্যকে দলের দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, আবার কেউ কেউ একে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে মনে করছেন।
শ্রীমঙ্গলে গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে যাত্রা শুরু করে এনসিপির গাড়িবহর বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাস্তায় নেমে দাঁড়ান দলের কেন্দ্রীয় নেতারা—নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও ডা. মাহমুদা জাহান মিতুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি চলার পর একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে অগ্রসর হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে কৌতূহল ও উত্তেজনা লক্ষ করা যায়।
একই সময়ে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার সড়কেও বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থান নেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার এই দৃশ্য দলের অনুসারীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।
হবিগঞ্জে সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা
এই ঘটনার একদিন আগে, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই স্থানীয় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই সংঘর্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনকেও সতর্ক অবস্থানে যেতে হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।
একই দিনে জেলা যুবদলও পাল্টা সমাবেশ ডাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের কর্মসূচি একই সময়ে হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এই আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে, যার ফলে ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের সমাবেশ বা জনসমাগম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
সার্বিক পরিস্থিতি
পরপর দুই দিনের এই ঘটনাপ্রবাহ—হবিগঞ্জে সংঘর্ষ এবং শ্রীমঙ্গলে গাড়িবহর আটকে দেওয়া—এনসিপির চলমান কর্মসূচিকে ঘিরে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক প্রতিকূলতার মুখে পড়া এবং তা সত্ত্বেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা আগামী দিনগুলোতে দলের রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: রাজধানীর নিরাপত্তায় নতুন পদক্ষেপ: বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য নিবন্ধনে জোর দিচ্ছে ডিএমপি

