লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মা ও তাঁর দুই কিশোরী মেয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রায়পুর পৌর শহরের টিনহাটা এলাকা সংলগ্ন স্থানে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শাহীনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর দুই মেয়ে ইকরা বেগম (১৮) ও সিপা বেগম (১০)। জানা গেছে, ইকরা ও সিপা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অন্যদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় শাহীনুর বেগমকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইকরা দ্বাদশ শ্রেণিতে এবং সিপা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যু এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। এই হামলায় শাহীনুরের বড় মেয়ে ছায়মা আক্তারও (২১) গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলার বিবরণ ও আটক
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত পরিবারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক যুবক দা হাতে ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাতাড়িভাবে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে জখম করেন। হামলার তীব্রতায় দুজনের মৃত্যু ঘটনাস্থলেই হয়ে যায়।
হামলার পরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং তাকে গণপিটুনি দিয়ে পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যদিও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তের পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন।
চিকিৎসকের বক্তব্য
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই দুই বোনের মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসা চলাকালীন মায়েরও মৃত্যু ঘটে। তিনি আরও বলেন, নিহত তিনজনের দেহেই ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে, বিশেষ করে গলায় মারাত্মক আঘাত লক্ষ্য করা গেছে। আহত ছায়মার শারীরিক অবস্থাও এখনো আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসল কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকার মানুষ স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীদের অনেকেই বলছেন, পরিবারটি বরাবরই শান্তশিষ্ট স্বভাবের ছিল এবং কারও সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধের কথা জানা ছিল না। হামলার নেপথ্য কারণ স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট পরিষ্কারের ভার সাংবাদিকদের কাঁধে চাপাতে চাইলেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা

