দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৮৮ জনে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫২০ জন মানুষ, যাদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ২০০ জনের আটকা পড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার বিকেলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের একাধিক এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ নেমে এসেছে। ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের একটি প্রতিবেদনে।
উদ্ধার কার্যক্রম চলছে পুরোদমে
ভূমিকম্পের পর থেকেই উদ্ধারকারী দলগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে নিরলসভাবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মকর্তারা বলছেন, সময়ের সাথে সাথে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ভয়াবহতার পূর্বাভাস ইউএসজিএসের
বুধবারের এই বিপর্যয়কর ভূকম্পন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের পূর্বানুমান মডেল বলছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের গণ্ডিও পার হয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি এই দুর্যোগের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে, যা সাধারণত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্তৃত পরিসরের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়।
জরুরি অবস্থা জারি, বন্ধ বিমানবন্দর
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সারাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পের কারণে কাঠামোগত ক্ষতির শিকার হওয়ায় রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এতে দেশের আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি
বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সহযোগিতার বার্তা আসতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে জানিয়েছেন, তার দেশ দ্রুততম সময়ে কার্যকর ও ব্যাপক পরিসরে মানবিক সহায়তা পাঠাবে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা যৌথভাবে দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য-ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: বিল গেটসের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি: তিন নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কের কথা জানালেন মার্কিন কংগ্রেসে

