আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মুদিদোকান, প্রসাধনী বিক্রেতা ও আরও বেশ কিছু ব্যবসায়িক খাতকে সুনির্দিষ্ট কর কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশকে এখন থেকে ভ্যাটের নির্দিষ্ট হারের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা চলছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
কোন কোন ব্যবসা পড়বে নতুন এই করজালে
আসছে অর্থবছরে যে ব্যবসায়িক খাতগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার চিন্তা করা হচ্ছে, তার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। তালিকায় রয়েছে:
- মুদিদোকান
- তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান
- কনফেকশনারি শপ
- প্রসাধনসামগ্রীর দোকান
- প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের দোকান
- জুতার দোকান
- হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা
- ডেকোরেটরস ব্যবসা
- মুঠোফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেনসহ ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর দোকান
- পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার, সেনিটারি ও ফিটিংস সামগ্রীর দোকান
- টাইলসের দোকান
- ঢেউটিনের দোকান
- রড ও সিমেন্ট ব্যবসা
- ফার্নিচারের দোকান
- মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্তোরাঁ
এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট, শহর-গ্রামের প্রায় প্রতিটি অলিগলিতে থাকা ছোট দোকানপাটও এই পরিকল্পনার সরাসরি আওতায় পড়তে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে কর জালের মধ্যে আনা, যা দেশের সামগ্রিক রাজস্ব আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভ্যাট থেকে গত অর্থবছরে কত আয় হয়েছিল
অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানান, বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেবল ভ্যাট খাত থেকেই সরকারের কোষাগারে এসেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব দেশের সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নতুন খাতগুলো ভ্যাটের আওতায় এলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
ইসলামী ব্যাংকে এমডি নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে
একই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে, এবং শিগগিরই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান জানতে চেয়েছিলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কী। জবাবে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্যাংকটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার চিত্র।
রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় গ্রাহক সুবিধা
ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫ এর নিয়ম অনুসারে, পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে নিজেদের জমানো আমানত উত্তোলন করতে পারছেন। এটি ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন
সরকার ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করেছে, এবং তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি পর্ষদে নতুন পরিচালকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের সার্বিক তদারকি কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমডি নিয়োগের পরের পথ
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমডি নিয়োগের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। নতুন পরিচালনা পর্ষদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ তদারকিতে কাজ করছে, যাতে ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়ে সম্পূর্ণ লেনদেন কার্যক্রমে ফিরতে পারে।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্য একসঙ্গে চলছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ:
- সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি
- নতুন চাকরি প্রবিধানমালা প্রস্তুতকরণ
- আইটি অবকাঠামো একীভূতকরণ
- কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) একীভূতকরণ
- জনবল একীভূতকরণ
- শাখাসমূহ একীভূতকরণ
- কোম্পানি সেক্রেটারি নিয়োগ
- চিফ ফাইন্যান্স অফিসার নিয়োগ
- চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়োগ
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সবগুলো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট পরিষ্কারের ভার সাংবাদিকদের কাঁধে চাপাতে চাইলেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা

