ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের উপর পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান ৮ নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
হামলার ঘটনা কীভাবে ঘটল
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজ আদায় শেষে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। ঠিক সেই মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা শুধু খালি হাতে নয়, বরং ঘুষি, ইটপাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণ করে বলে মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত নেতাকর্মীরা কারা
এই সহিংস হামলায় এনসিপির একাধিক নেতা গুরুতর ও লঘু আঘাত পান। আহতদের মধ্যে রয়েছেন —
- মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- তানাইম
- আসিফ
- আলামিন
- হাসিবুর রহমান
- নাহিয়ান খান নিয়াজ
- অয়ন রহমান খান
হামলার পর স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
ছিনতাইয়ের অভিযোগ: লক্ষাধিক টাকার সরঞ্জাম লুট
শুধু শারীরিক আঘাতেই হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। হামলার সুযোগে একটি সনি আলফা এ-৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স, মেমোরি কার্ড, একাধিক মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ছিনতাই হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছেন। এছাড়া হামলার সময় নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় যাদের নাম রয়েছে
শুক্রবার রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা। মামলায় সরাসরি নাম উল্লেখ করা ৮ আসামি হলেন —
১. শাহেদ আহম্মেদ — ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ২. ইমরান হোসেন — জেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ৩. এসএম সমিনুজ্জামান সমিন — জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ৪. শাহরিয়ার রাসেল — সাধারণ সম্পাদক ৫. নয়ন হাওলাদার — সাবেক সহ-সভাপতি ৬. মোবারেক হোসেন ইমন — পৌর ছাত্রদলের সভাপতি ৭. হাদু — সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ৮. আরও একজন (নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত)
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদ্বেগ
এনসিপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার উপর এমন সংঘবদ্ধ হামলা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। ধর্মীয় উপাসনার স্থানের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের সশস্ত্র আক্রমণ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির — গণশুনানিতে তীব্র বিরোধিতা

