সাভার ও আশুলিয়ায় একদিনে তিনটি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করেছে পুলিশ, আর একটি ঘটনায় রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় এক যুবতীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার একটি এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশু বাড়ির পাশে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গিয়েছিল। এ সময় প্রতিবেশী এক দম্পতি তাকে লক্ষ্য করে এবং পরবর্তীতে শিশুটি নির্যাতনের শিকার হয়। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। ভুক্তভোগী পরিবার আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
এর পাশাপাশি আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে দশ বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু তার সৎ বাবার দ্বারা নির্যাতনের চেষ্টার শিকার হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাতের দিকে শিশুটি ঘরে একা থাকার সময় ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে এবং অভিযুক্তকে আটক করে রাখে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সৎ বাবা জহুরুল ইসলাম (২৭)-কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। জহুরুল ইসলাম পেশায় একজন অটোরিকশাচালক বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ঢাকার সাভার থানার বিরুলিয়া ইউনিয়নের ধরেন্ডা কমলাপুর এলাকা থেকে রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় ২৪ বছর বয়সী এক যুবতীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, যুবতীটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী যুবতী জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার পঞ্চমহলা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কমলাপুরের ঢাল এলাকায় এলাকাবাসী তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুবতীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলাপুর বাজারে নিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে সাভার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রায় দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি টানলেন আলোচিত চিকিৎসক জুটি সুষমা-কুশল

