শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
কেন এতদিন পর মুখ খুললেন মাসুমা হাদি?
মাসুমা হাদি জানান, পারিবারিক কারণে তিনি শুরু থেকেই অনেক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী নির্বাচন নিয়ে যেভাবে ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যমূলক আলোচনা চলছে, তাতে বাধ্য হয়ে তিনি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার ভাষায়, একটি ‘বিপ্লবী’ পরিবারকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অসম্মান ছড়ানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হাসপাতালে উপস্থিত থাকার পরও কেন নেওয়া হয়নি পরিবারের স্বাক্ষর?
মাসুমা হাদির দাবি, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ামাত্র তিনি দ্রুত ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং পুরো সময় সেখানে অবস্থান করেন। অথচ পরিবারের সদস্য উপস্থিত থাকার পরও প্রশাসনের লোকজন মামলার বাদী হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, তাকে বলা হয়েছিল যে স্বজন ওমর ফারুক সেই মুহূর্তে চিকিৎসার জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি পরবর্তী সময়ে দেখবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। তখন চিকিৎসাই ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ওমর ফারুকের ভূমিকা এবং আইনগত ব্যাখ্যা
মাসুমা হাদি স্পষ্ট করেন যে, আহত ও সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও ওমর ফারুক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি আইনগত বিষয়টিও পরিষ্কার করেন। তার মতে, ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি পুলিশ চাইলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবেও মামলা দায়ের করতে পারে।
অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান ও বিচারের প্রতি আস্থা
পোস্টের শেষাংশে মাসুমা হাদি অনলাইনে পরিকল্পিতভাবে পরিবারকে নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান। তিনি বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করে সবাইকে ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান।
একটি শহীদ পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আলোচনা চলছে, তা শুধু পরিবারের জন্য নয়, দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

